প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা

প্রভাত ডেস্ক : করোনা এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত আতঙ্কের নাম। সর্বদা ছড়িয়ে পড়া করোনা ভয়, সঙ্গে ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ আজ বাকরূদ্ধ। অসহায় এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছে নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এদের মধ্যে একটি প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা

করোনার এই সংকটময় সময়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে চাঁদপুর ও হাজীগঞ্জে নিন্ম ও মধ্যবিত্ত এবং ছিন্নমূল মানুষের পাশে প্রভাতের উপহার এবং এক বেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। গত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রথম রমজান থেকে এ উদ্যোগ চালু করেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা নামক এই সংগঠনটি।

তেমনি প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, চাঁদপুর শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রভাতের বিভিন্ন কার্য ক্বরমের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে চলে থাকা সরকার ঘোষিত লকডাউনে অসহায় হয়ে পড়া চাঁদপুর সদরের প্রতিটি ইউনিয়নে ঘরবন্দি নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার উদ্যোগ নিয়ে প্রথম রমজান থেকে প্রতিদিন তিনটি পরিবারকে এক সাপ্তাহের ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। তারা এর নাম দিয়েছেন “প্রভাতের উপহার”।

উপহারের মধ্যে রয়েছে- ১ কেজি ছনা, ১ কেজি খেসারী ডাল, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার সয়াবিন তৈল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি মুড়ি এবং আধা কেজি খেজুর। সবমিলিয়ে তিনটি পরিবারের জন্য প্রতিদিনের খরচ পড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকার মত। আর এতে আর্থিক যোগান দিচ্ছেন প্রভাতের শুভাকাঙ্খিসহ বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ। তিনি আরো জানান, গত বছর লকডাউন চলাকালীন রমজান মাসে ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে প্রতিদিন ইফতারের আগ মূহুর্তে এক বেলা খাবার পৌঁছে দিয়েছেন তারা।

সেই সাথে প্রতিবছরই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু করেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা, হাজীগঞ্জ শাখার নেতৃবৃন্দ। তারা গতবছরের ন্যায় এবছরও “এক বেলার খাবার” নামক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এমনটাই জানালেন প্রভাত হাজীগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন সাকিব। তিনি জানান, প্রথম রমজান থেকেই প্রতিদিন ইফতার মূহুর্তে এবং মধ্য রাতে প্রায় অর্ধশত রোজাদার, অসহায়, ভবঘুরে ও অভুক্ত মানুষের মাঝে বিরিয়ানীর সাথে ডিম অথবা কোন কোন দিন সাদা ভাতের সঙ্গে মুরগীর মাংস দেওয়া হয়।

অনেক সময় স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা চিন্তা করে সাপ্তাহে দুই দিন সবজি খিচুড়ির সাথে ডিম দিয়ে খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রাখেন। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন অসহায়দের মুখে “এক বেলার খাবার” পৌঁছে দিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকার মতো খরচ হয়ে থাকে। তবে এর আর্থিক যোগান প্রথমে সংগঠনের সদস্যরা বহন করলেও বর্তমানে অনলাইন প্রচার ও শুভাকাঙ্খিদের মাধ্যমেেএ ব্যায় চালানো হয়। এছাড়াও রমজানের শেষ দশদিনে পুরো হাজীগঞ্জ জুড়ে মসজিদে মসজিদে এতেকাফে বসা মুসল্লিদের মাঝে কয়েক ধরনের ফল ও খেজুর বিতরণ করা হয়ে থাকে। সেই সাথে উক্ত চলমান ইভেন্টে প্রতিনিয়ত সার্বিক ও আর্থিভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ একঝাঁক সংবাদকর্মী।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার আগারগাঁও থেকে প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থার পথচলা। রক্ত দানের মাধ্যমেই তাদের কর্ম যজ্ঞ শুরু। এর পর থেকে এক এক করে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজ করে মানুষের অন্তরে ঠাঁই করে নিয়েছেন প্রভাত সমাজকল্যাণ সংস্থা নামক এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।

প্রভাতের কেন্দ্রীয় পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়ে চালু করা হয়েছে শাখা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমেই চলমান থাকে দূর্যোগ মূহুর্তসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। তারই অংশ হিসেবে সরকারের পাশাপাশি মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় অসহায়দের পাশে দাঁড়াচ্ছেন প্রভাতের স্বেচ্ছাসেবীরা



Leave a Reply